আওয়ামী লীগের বাধায় নেত্রকোনায় সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপি,নেত্রকোনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের হামলায় সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১০ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জনসমাবেশ করার চেষ্টা করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হামলায় তাঁদের কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়। আজ শনিবার সকাল থেকে বেলা পৌনে তিনটা পর্যন্ত সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

আওয়ামী লীগের বাধায় নেত্রকোনায় সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপি
এ ঘটনায় ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে নেত্রকোনা জেলা বিএনপি। বিএনপির নেতাদের দাবি, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের হামলায় তাঁদের কর্মসূচি পণ্ড হয়ে গেছে। হামলায় তাঁদের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। নেত্রকোনায় বিএনপির জনসমাবেশে তাঁর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত
থাকার কথা ছিল। মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘নেত্রকোনায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের হামলার পর সেখানে সংবাদ সম্মেলন করার মতো পরিবেশ ছিল না। যে কারণে নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহে ফিরে আমরা সংবাদ সম্মেলন করছি। পুলিশের অনুমতি থাকার পরও নেত্রকোনায় আমাদের সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ একযোগে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে। এটি কোনো রাজনৈতিক পরিবেশ হতে পারে না। এটি হচ্ছে আওয়ামী লীগের গণতন্ত্রের নমুনা।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আনোয়ারুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রথমে সার্কিট হাউস মোড়ে মিলিত হই। সেখানে বাধা দেওয়া হলে বিকল্প স্থান হিসেবে কুড়পাড়, নতুন জেলখানা রোড, বনোয়াপাড়া মোড় ও সবশেষে মদনপুর বাজারে কর্মসূচি পালন করতে যাই। সেখানেও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের লোকজন প্রকাশ্যে পুলিশের সামনে লাঠিসোঁটা, দা ও রড নিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর

হামলা করেন। এতে ২৫ নেতা-কর্মী আহত হন। এর মধ্যে ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।’সমাবেশ পণ্ড করার প্রতিবাদে নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন। আজ শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবেছবি: অভিযোগের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান বলেন, ‘শুনেছি বিএনপির লোকজন জড়ো হয়ে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির
চেষ্টা করছিল। তাঁদের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রতিবাদে আমাদের নেতা-কর্মীরা সক্রিয় ছিল। এ ছাড়া তাঁদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নিজেদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আমাদের লোকজন বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীর ওপর হামলা করেনি।’নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. লুৎফুর রহমান বলেন, বিএনপির কর্মসূচির কোনো অনুমতি ছিল না। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলা ও নাশকতার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাত
থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে।ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এরমান সালেহ প্রিন্স বলেন, নেত্রকোনা যেন বাংলাদেশের মধ্যে বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ। সেখানে বিএনপিকে কোনো কর্মসূচিই পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ৩৯ বার নেত্রকোনা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করা হয়েছে। কর্মসূচি

পালন করতে গেলে বিএনপির মঞ্চ পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। জনসভার মতো নিরীহ কর্মসূচি যেখানে পালন করতে দেওয়া হয় না, সেখানে আবার নির্বাচনে অংশ নিতে বলা হয়। এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে।সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম হিলালীসহ ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:
