নেত্রকোনার বর্জ্য অপসারণের প্রকল্পটি এখন দুর্গন্ধ ছড়ানোর উৎস

দুর্গন্ধ ছড়ানোর উৎস – নেত্রকোনায় স্যানিটারি ল্যান্ড ফিল স্থাপন করা হলেও আবর্জনা প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংযোজন না করায় এটি কোনো কাজেই আসছে না। বরং আশপাশের এলাকা আবর্জনায় ভরাট হয়ে দুর্গন্ধ ও বায়ুদূষণে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

 

নেত্রকোনার বর্জ্য অপসারণের প্রকল্পটি এখন দুর্গন্ধ ছড়ানোর উৎস

 

জানা গেছে, জেলার সব বর্জ্য একত্রিত করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে সার উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাহিরচাপড়া এলাকায় স্যানিটারি ল্যান্ড ফিলের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন দশমিক শূন্য পাঁচ একর জায়গাজুড়ে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও সেখানে আবর্জনা প্রক্রিয়াজাতকরণের কোনো যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়নি। পরবর্তীতে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল তৎকালীন পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম খান আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপনাটির উদ্বোধন করেন।

তবে উদ্বোধনের এক বছর পার হলেও প্রকল্পটি কার্যকর হয়নি। ফলে পৌর এলাকার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ল্যান্ড ফিলটির আশপাশে, এমনকি ফসলি জমিতেও। বর্জ্য পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, আবর্জনার স্তূপের কারণে আশপাশের জমির দাম কমে গেছে, এমনকি অনেক পরিবার তাদের আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে আনতেও সংকোচবোধ করছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যাও দেখা দিয়েছে।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাদের আশ্বস্ত করা হলেও বাস্তবে তা কোনো সুফল দেয়নি। উল্টো, পৌরসভার ওয়েবসাইটে প্রকল্পের সম্পূর্ণ ব্যয়ের হিসাব নেই। ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় উল্লেখ থাকলেও পুরো প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হয়েছে বা আদৌ ব্যয় করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হুমায়ূন কবির জানান, স্থাপনাটি কার্যকর করতে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে কবে নাগাদ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

Leave a Comment