৫ বছর ধরে পথচারীদের ভোগান্তি

৫ বছর ধরে পথচারীদের ভোগান্তি, নেত্রকোনা-কেন্দুয়া সড়ক প্রকল্পের সংস্কারকাজ প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফা বাড়িয়েও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পাঁচ বছর ধরে সড়কটিতে বাস চলাচলও বন্ধ রয়েছে। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে তিন চাকার বাহন চলছে হেলেদুলে। ফলে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করা যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অথচ প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করেন। তাই তাঁরা দ্রুত এ সড়কের সংস্কারকাজ শেষ করার দাবি জানান।

 

৫ বছর ধরে পথচারীদের ভোগান্তি

 

৫ বছর ধরে পথচারীদের ভোগান্তি

গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে। সড়কের ধারে ফেলে রাখা হয়েছে পাথর ও বালু। যানবাহন চলাচল করায় আশপাশের এলাকা ধুলায় ছেয়ে যাচ্ছে। ধুলা থেকে কিছুটা রক্ষা পেতে  ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যান, কাভার্ড ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে থাকা যাত্রীরা নাক–মুখ ঢেকে রেখেছেন। কিছু এলাকায় পিচের ঢালাই নেই। খানাখন্দে ভরে গেছে পুরো সড়ক। রামপুর বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন,

সড়কটির সংস্কারকাজ খুবই ঢিমেতালে চলছে। এখনো মানুষের দুর্ভোগের অবসান হচ্ছে না। পাঁচ-ছয় বছর ধরে সড়কে বাস চলে না। ইজিবাইক-অটোরিকশায় যাতায়াত করলে বেশি ভাড়া দিতে হয়। সিএনজিচালক আশিক মিয়া বলেন, বৃষ্টির সময় কাদা আর রোদের সময় ধুলাবালুতে একাকার হয়ে যায় সড়ক। মাঝেমধ্যে ছোট–বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ওই সড়ক দিয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করে। স্কুল-কলেজে যাওয়া–আসা করে কয়েক শ শিক্ষার্থী।

সড়কটি পুরোপুরি সংস্কার না হওয়ায় বাস চলাচল করে না। তিন চাকার যানবাহনে চলাচল করতে গিয়ে যাত্রীদের দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। আবার অনেকে এ পথে না গিয়ে মদন হয়ে বেশি পথ ঘুরে নেত্রকোনা-কেন্দুয়া যাতায়াত করছেন। অথচ সড়কটি দিয়ে নেত্রকোনা-কেন্দুয়া ছাড়াও কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রাম, সিলেট, ফেনী, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস চলাচল করত। এখন সে বাসগুলো অনেক পথ ঘুরে চলাচল করে।জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফ খান বলেন, নেত্রকোনা

-কেন্দুয়া সড়কে প্রায় পাঁচ বছর ধরে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ হলেই আবার বাস চালু করা হবে।জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা শহরের বনোয়াপাড়া মোড় থেকে কেন্দুয়া পৌর শহরের সাউদপাড়া মোড় পর্যন্ত নেত্রকোনা-কেন্দুয়া সড়কের দৈর্ঘ্য ২৬ কিলোমিটার। ২০১৯ সালে সড়কটি সংস্কারে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির নাম ‘নেত্রকোনা-কেন্দুয়া-আঠারোবাড়ি-ঈশ্বরগঞ্জ জেলা

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প’। এর নেত্রকোনা অংশে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩৫৩ কোটি টাকা। সূত্রটি আরও জানায়, সড়কটি ২৬ ফুট প্রশস্ত করার কথা। প্রকল্পের মেয়াদকাল ছিল গত ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। পরে তা ছয় মাস করে দুই বার বাড়ানো হয়। বর্ধিত সময় অনুযায়ী এ বছরের জুনে কাজের মেয়াদ শেষ হবে। তিনটি প্যাকেজ করে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সড়ক সংস্কারের কাজ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠান তিনটি হচ্ছে, এমএম বিল্ডার্স ও তানভির কনস্ট্রাকশন, মঈনউদ্দিন বাঁশি ও ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন। এত

দিনে মাত্র ৯ কিলোমিটার অংশে পিচ ঢালাই হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দুয়ার মাইজকান্দি এলাকা থেকে লস্করপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত চার কিলোমিটার, সদরের মনাং বোর্ড বাজার থেকে মদনপুর বাজার পর্যন্ত দুই কিলোমিটার ও বালি এলাকা থেকে বনোয়াপাড়া পর্যন্ত তিন কিলোমিটার অংশ রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তানভির কনস্ট্রাকশনের মালিক তানভির আহমেদ গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, তাঁর প্যাকেজের ৯ কিলোমিটার অংশের তিন কিলোমিটারের পিচঢালাই শেষ। বাকি

অংশের কাজ দুই-তিন মাসের মধ্যে শেষ করা হবে। ভাওয়াল কনস্ট্রাকশনের মালিক ফকরুদ্দিন বলেন, জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে। পাথর সহজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ছাড়া নির্মাণসামগ্রীর দামও বেশি। তাই কাজটি শেষ করতে দেরি হয়েছে। আর মঈনউদ্দিন বাঁশির ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম ফোন ধরেননি।নেত্রকোনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান বলেন, সড়কের কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে সতর্কীকরণ চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত কাজ করতে না পারলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

৫ বছর ধরে পথচারীদের ভোগান্তি

 

আরও পড়ুন :

১ thought on “৫ বছর ধরে পথচারীদের ভোগান্তি”

Leave a Comment