নেত্রকোণা জেলার নামকরণের ইতিহাস

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় নেত্রকোণা জেলার নামকরণের ইতিহাস, নেত্রকোণা জেলা বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্গত ।

নেত্রকোণা জেলা সর্ম্পকে কিছু তথ্যঃ-

নেত্রকোণা জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক এলাকা। উপজেলার সংখ্যানুসারে নেত্রকোণা বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা। এখানে রয়েছে পাহাড়ি জলপ্রপাত, চীনা মাটির পাহাড়, নদী, খাল, বিল। নেত্রকোণা জেলা ১০টি উপজেলা, ১১টি থানা, ৫টি পৌরসভা, ৮৬টি ইউনিয়ন, ১৯৬৭টি মৌজা, ২২৯৯টি গ্রাম ও ৫টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত। এই জেলার উত্তরে উত্তরে ভারতের মেঘালয়, দক্ষিণে কিশোরগঞ্জ জেলা, পূর্বে সুনামগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে ময়মনসিংহ জেলা।

 

নেত্রকোণা জেলার নামকরণের ইতিহাস
কংস নদী – নেত্রকোণা জেলা

 

নেত্রকোণা জেলার নামকরণের ইতিহাস:-

নেত্রকোনা নামটি এসেছে নাটেরকোনা নামক গ্রামের নাম থেকে। গ্রামটির অবস্থান নেত্রকোনা জেলা শহরের উত্তরে। ‘পাগলপন্থী বিদ্রোহ’ দমন করার উদ্দেশ্যে সপ্তদশ শতকের শেষভাগে ইংরেজ সরকার নাটেরকোনা নামক স্থানে প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থাপন করেছিল। প্রসঙ্গত, পাগলপন্থী বিদ্রোহের সূচনা করেছিলেন লেটিরকান্দার ‘টিপু পাগলা’।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

ইংরেজ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এই ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তাঁর বাবা করিম শাহ ফকির। যিনি স্থানীয় আদিবাসী-হিন্দু-মুসলমান সবার নিকট সাধক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিজেকে তিনি পাগল বলে পরিচয় দিতেন। তাঁর অনুসারীরাই ‘পাগলপন্থী’ নামে পরিচিতি পান। করিম শাহ ফকিরের পিতা শের আলী গাজী ছিলেন শেরপুরের জমিদার, তাঁর নামেই শেরপুর জেলার নামকরণ হয়েছে।

পরবর্তীতে নৌযোগাযোগের সুবিধার্থে ও পাগলপন্থীদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে নাটেরকোনা থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম কালীগঞ্জে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু ইংরেজ সরকারের প্রশাসনিক দলিল আদানপ্রদান চলতে থাকে নাটেরকোনা নামেই। ইংরেজদের মাধ্যমে ধ্বনি পরিবর্তনের ফলশ্রুতিতে নাটেরকোনা > নেতেরকোনা > নেতরকোনা > নেত্রকোনা (Netrokona) রূপ লাভ করে। আর নেত্রকোনায় বিলীন হয়ে যায় কালীগঞ্জ। ১৮৮০ সালে নেত্রকোনা মহকুমায় পরিণত হয়। মহকুমার কার্যক্রম শুরু হয় ১৮৮২ সালে। ১৭ জানুয়ারি ১৯৮৪ সালে জেলা হিসেবে ঘোষিত হয় নেত্রকোনা।

 

নেত্রকোণা জেলার নামকরণের ইতিহাস
কমলা রাণীর দিঘী – নেত্রকোণা জেলা

 

আরও পড়ুনঃ

১ thought on “নেত্রকোণা জেলার নামকরণের ইতিহাস”

Leave a Comment